Application

সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা — যা জানা দরকার

Government Job Quota System Guide

সর্বশেষ পর্যালোচনা: 2026-07-10 9 মিনিট পড়া 8 অংশ

বাংলাদেশ সরকারি চাকরিতে বর্তমান কোটা — ৯৩% মেধা, ৫% মুক্তিযোদ্ধা পরিবার, ১% নৃগোষ্ঠী ও ১% প্রতিবন্ধী। কী বাতিল হয়েছে জানুন।

চাকরি খুঁজুন

সর্বশেষ সরকারি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখুন ও আবেদন করুন।

সকল চাকরি

বর্তমান কোটা কাঠামো (২০২৪-পরবর্তী)

২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন ও সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায়ের পর সরকারি চাকরিতে নিয়োগের কাঠামো নতুনভাবে নির্ধারিত হয়। রায় ও পরবর্তী প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সাধারণ কাঠামোটি হলো:

  • মেধাভিত্তিক নিয়োগ — ৯৩%।
  • মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য (সন্তান/উত্তরসূরি) — ৫%।
  • ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী — ১%।
  • শারীরিক প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গ — ১%।

Current quota structure (post-2024)

Following the 2024 quota reform movement and the Appellate Division ruling, Bangladesh government recruitment now follows a 93% merit / 5% freedom-fighter-family / 1% indigenous / 1% disabled-and-third-gender structure — down from the 56% total quota that existed before 2018.

কোন কোটাগুলো এখন আর নেই — বিভ্রান্তি এড়াতে

কোটা নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্তি হয় পুরনো নিয়ম আর নতুন নিয়ম গুলিয়ে ফেলায় — বিশেষ করে অনেকে এখনো ধরে নেন জেলা কোটা বা নারী কোটা এখনো আছে। স্পষ্ট করে বলা দরকার: ২০১৮ সালে যে কোটাগুলো বাতিল হয়েছিল তার মধ্যে ছিল জেলা কোটা, নারী কোটা এবং মুক্তিযোদ্ধার নাতি-নাতনি কোটা — এই তিনটি কোটা এখন আর কার্যকর নেই। ২০২৪ সালের সংস্কারের পর মুক্তিযোদ্ধা কোটা প্রথম প্রজন্মের সন্তানদের মধ্যেই সীমিত রাখা হয়েছে, নাতি-নাতনি পর্যায়ে সম্প্রসারিত হয়নি।

নিচের সারণিতে ২০১৮ সালের আগের কাঠামো, ২০১৮-২০২৪ সময়ের কাঠামো এবং ২০২৪ সালের পরের বর্তমান কাঠামো — তিনটি পর্যায়ের তুলনা দেওয়া হলো, যাতে কোন কোটা কখন বাতিল বা পরিবর্তিত হয়েছে তা এক নজরে বোঝা যায়।

সরকারি চাকরির কোটা কাঠামো — তিনটি পর্যায়ের তুলনা
কোটার ধরন ২০১৮-এর আগে ২০১৮–২০২৪ ২০২৪-এর পরে (বর্তমান)
মেধা ৪৪% ১০০% (৯ম–১৩তম গ্রেডে) ৯৩%
মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ৩০% নেই ৫%
জেলা কোটা ১০% নেই নেই
নারী কোটা ১০% নেই নেই
ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ৫% নেই ১%
প্রতিবন্ধী ১% নেই ১% (তৃতীয় লিঙ্গসহ)

District quota, women's quota, and the freedom-fighter-grandchildren quota were all abolished in 2018 and remain abolished under the 2024 structure — a common source of confusion, since older circulars and forum posts still reference them.

গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

উপরের কাঠামো সাধারণ চিত্র — কোন গ্রেড বা কোন ধরনের নিয়োগে ঠিক কীভাবে কোটা প্রয়োগ হবে তা নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপন ও প্রতিটি সার্কুলারের ভাষার ওপর। বিভিন্ন সূত্রে এই কাঠামো ঠিক কোন কোন গ্রেডে প্রযোজ্য তা নিয়ে কিছুটা ভিন্নতা দেখা যায় — তাই "সব গ্রেডে একই হারে প্রযোজ্য" এমন ধরে না নিয়ে নিজের নিয়োগের সার্কুলারে দেওয়া কোটা-সংক্রান্ত অনুচ্ছেদটিই চূড়ান্ত ধরুন। কোটাধারী প্রার্থী না পাওয়া গেলে সেই পদ মেধাতালিকা থেকে পূরণের বিধানও থাকে।

প্রেক্ষাপট বুঝতে সংক্ষিপ্ত ইতিহাস: ২০১৮ সালের আন্দোলনের পর ৯ম–১৩তম গ্রেডে কোটা বাতিল করা হয়েছিল; ২০২৪ সালের জুন-জুলাইয়ে আদালতের রায় ঘিরে আন্দোলনের পর আপিল বিভাগ উপরের ৯৩-৫-১-১ কাঠামো নির্ধারণ করে, যা পরবর্তী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিগুলোতে অনুসরণ করা হচ্ছে।

সার্কুলারে যা খুঁজে দেখবেন

  • মোট পদের মধ্যে মেধা ও কোটার বণ্টন কীভাবে হবে।
  • কোন কোটায় আবেদন ফরমে আলাদা অপশন নির্বাচন করতে হয়।
  • মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য কোটায় কোন সনদ ও সম্পর্কের প্রমাণ গ্রহণযোগ্য।
  • প্রতিবন্ধী কোটায় সমাজসেবা অধিদপ্তরের সনদের (সুবর্ণ নাগরিক কার্ড) শর্ত।
  • ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কোটায় কোন কর্তৃপক্ষের সনদ লাগবে।
  • কোটাধারী প্রার্থী না পাওয়া গেলে পদ পূরণের নিয়ম।

অনলাইন আবেদনে কোটাধারীদের করণীয়

Teletalk ফরমে কোটা-সংক্রান্ত ঘর থাকলে নিজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সঠিক ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন এবং ভাইভা ও নিয়োগের প্রতিটি ধাপে মূল সনদ সাথে রাখুন। যে কোটা দাবি করছেন তার বৈধ সনদ দেখাতে না পারলে প্রার্থিতা বাতিল হয় — আর ইচ্ছাকৃত ভুল দাবি করলে ভবিষ্যৎ নিয়োগে অযোগ্য ঘোষণারও ঝুঁকি থাকে।

কোটার প্রয়োজনীয় সনদ কীভাবে জোগাড় ও সত্যায়ন করবেন তার বিস্তারিত আমাদের কাগজপত্র চেকলিস্ট গাইডে দেখুন।

কিছু নির্দিষ্ট নিয়োগে ওপরের সাধারণ কাঠামোর বাইরেও আলাদা প্রাসঙ্গিক শর্ত থাকে — যেমন পুলিশ কনস্টেবলসৈনিক/নাবিক/বিমানসেনা নিয়োগে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী প্রার্থীদের জন্য শারীরিক মাপে বিশেষ ছাড় এবং প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগে সময়ে সময়ে পরিবর্তিত নিজস্ব কোটা বিন্যাস থাকে — সংশ্লিষ্ট গাইড ও নিজের সার্কুলার দুটোই মিলিয়ে দেখুন।

কোটার সনদ কোথা থেকে ও কীভাবে সংগ্রহ করবেন

  • মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য সনদ: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বা জামুকা (জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল)-এর নির্ধারিত ফরম্যাটে ইস্যুকৃত সনদ এবং সংশ্লিষ্ট মুক্তিযোদ্ধার সাথে সম্পর্কের প্রমাণ (জন্ম নিবন্ধন/পারিবারিক সনদ) — দুটোই লাগে, শুধু একটি নয়।
  • প্রতিবন্ধী কোটার সনদ: সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক ইস্যুকৃত সুবর্ণ নাগরিক কার্ড বা প্রতিবন্ধিতা সনদ — আবেদনের আগেই এই সনদ হাতে থাকা আবশ্যক, ভাইভার দিন জোগাড়ের চেষ্টা করলে সময়মতো পাওয়া কঠিন হতে পারে।
  • ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কোটার সনদ: সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক বা উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয় থেকে নৃগোষ্ঠী সনদ সংগ্রহ করতে হয়; প্রক্রিয়াটি এলাকাভেদে কিছুটা ভিন্ন হতে পারে, তাই আগেভাগে শুরু করুন।
  • সব সনদের একাধিক সত্যায়িত ফটোকপি আগে থেকেই তৈরি রাখুন — আমাদের কাগজপত্র চেকলিস্ট গাইডে সত্যায়নের নিয়ম বিস্তারিত দেওয়া আছে।

কোটা ঠিক কোন ধাপে প্রয়োগ হয়

কোটা নিয়ে আরেকটি সাধারণ ভুল ধারণা হলো এটি ভাবা যে কোটাধারী প্রার্থীদের লিখিত বা প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় আলাদা কোনো সহজ মানদণ্ড থাকে। বাস্তবে বেশিরভাগ নিয়োগে সব প্রার্থীকেই একই প্রশ্নপত্রে, একই পাস নম্বরে উত্তীর্ণ হতে হয় — কোটার হিসাব সাধারণত প্রয়োগ হয় চূড়ান্ত সুপারিশ ও পদায়নের ধাপে, অর্থাৎ যোগ্য প্রার্থীদের মধ্য থেকে কাকে কোন কোটায় সুপারিশ করা হবে তা নির্ধারণে। ফলে পরীক্ষায় প্রস্তুতির ক্ষেত্রে কোটাধারী ও সাধারণ প্রার্থীর মধ্যে বাস্তবে তেমন কোনো পার্থক্য থাকে না — সবাইকেই সমান প্রতিযোগিতায় পাস করতে হয়, কোটা শুধু চূড়ান্ত বাছাইয়ে প্রাসঙ্গিক হয়।

সুনির্দিষ্ট নিয়োগে এই হিসাব ঠিক কীভাবে কাজ করে তা প্রতিটি প্রজ্ঞাপন ও সার্কুলারে আলাদাভাবে বর্ণিত থাকে — তাই "কোটা মানে সহজ পরীক্ষা" এই ধারণা নিয়ে প্রস্তুতিতে ঢিলেমি দেবেন না।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

  • মুক্তিযোদ্ধার নাতি-নাতনি কি কোটার সুবিধা পান? — না; এই কোটা ২০১৮ সালে বাতিল হয়েছে এবং ২০২৪ সালের সংস্কারেও ফেরানো হয়নি। বর্তমান ৫% কোটা শুধু মুক্তিযোদ্ধার সন্তান/উত্তরসূরি পর্যায়ে সীমিত।
  • জেলা কোটা বলে কি এখনো কিছু আছে? — না; জেলাভিত্তিক কোটা ২০১৮ সাল থেকেই বিলুপ্ত। কোনো সার্কুলারে "নিজ জেলা" শব্দ দেখলে সেটি সাধারণত পদায়নের অগ্রাধিকার সংক্রান্ত শর্ত, কোটা নয় — দুটো এক জিনিস নয়, তাই সার্কুলারের প্রকৃত ভাষা মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।
  • নারীদের জন্য আলাদা কোনো কোটা আছে? — সাধারণ ৯৩-৫-১-১ কাঠামোয় নারীদের জন্য আলাদা শতাংশ নেই; তবে নির্দিষ্ট কিছু পদ বা প্রতিষ্ঠানে নারী প্রার্থীদের জন্য বিশেষ সংরক্ষণ থাকতে পারে — এটি সার্কুলারভেদে ভিন্ন, তাই নিজের নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেখে নিশ্চিত হোন।
  • কোটার আসন খালি থাকলে কী হয়? — নির্দিষ্ট কোটায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে সাধারণত সেই পদ মেধাতালিকা থেকে পূরণ করার বিধান থাকে — সুনির্দিষ্ট নিয়ম সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপনে দেওয়া থাকে।
  • একজন প্রার্থী কি একাধিক কোটায় আবেদন করতে পারেন? — সাধারণত একজন প্রার্থী যে কোটায় প্রকৃতপক্ষে যোগ্য (যেমন একইসাথে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য ও প্রতিবন্ধী) সেই একাধিক কোটাতেই যোগ্যতা দাবি করতে পারেন, তবে চূড়ান্ত প্রয়োগ নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী হয় — অনিশ্চয়তা থাকলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে সরাসরি যোগাযোগ করুন।
  • ভুয়া কোটা সনদ দিয়ে আবেদন করলে কী হয়? — মিথ্যা কোটা দাবি বা জাল সনদ প্রমাণিত হলে প্রার্থিতা বাতিল তো হয়ই, ভবিষ্যতের সরকারি নিয়োগেও অযোগ্য ঘোষণা এবং আইনি ব্যবস্থার ঝুঁকি থাকে — তাই অনিশ্চিত হলে কোটা দাবি না করাই নিরাপদ।
  • কোটা কি বেসরকারি ব্যাংক বা প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের নিয়োগেও প্রযোজ্য? — না; কোটা ব্যবস্থা সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের নিয়োগে প্রযোজ্য। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের নিয়োগ এর আওতায় পড়ে, তবে সম্পূর্ণ বেসরকারি ব্যাংক বা কোম্পানির নিয়োগে কোটার নিয়ম প্রযোজ্য হয় না।
  • কোটার প্রতিটি ক্যাটাগরিতে আলাদা মেধাতালিকা হয়? — সাধারণত হ্যাঁ; প্রতিটি কোটা ক্যাটাগরির জন্য নির্ধারিত পদসংখ্যার বিপরীতে সেই ক্যাটাগরির যোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে থেকে আলাদাভাবে মেধাক্রম নির্ধারণ করা হয় — নির্দিষ্ট পদ্ধতি সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপনে বর্ণিত থাকে।
  • কোটা সংক্রান্ত নিয়ম ভবিষ্যতে আবার বদলাতে পারে? — সরকারি নীতি সময়ের সাথে পরিবর্তিত হতে পারে, তাই এই গাইডে বর্ণিত ৯৩-৫-১-১ কাঠামো লেখার সময়ের (২০২৬) সর্বশেষ অবস্থা — নিয়মিত সরকারি প্রজ্ঞাপন ও নিজের নিয়োগের সার্কুলার দিয়েই সবসময় চূড়ান্ত তথ্য যাচাই করুন।
Advertisement
দায়মুক্তি

এই গাইড সাধারণ তথ্যের জন্য। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে অফিসিয়াল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখুন। Disclaimer · যোগাযোগ

সব গাইডে ফিরুন