BCS

বিসিএস পরীক্ষা ও নিয়োগ — সম্পূর্ণ গাইড

BCS Exam & Recruitment Guide

সর্বশেষ পর্যালোচনা: 2026-07-11 9 মিনিট পড়া 11 অংশ

বিসিএস পরীক্ষার তিনটি ধাপ — ২০০ নম্বরের প্রিলি, ৯০০ নম্বরের লিখিত ও ভাইভা। ক্যাডার পছন্দ ও প্রস্তুতির দিকনির্দেশনা।

চাকরি খুঁজুন

সর্বশেষ সরকারি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখুন ও আবেদন করুন।

সকল চাকরি

বিসিএস কী এবং কেন এত প্রতিযোগিতা

বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (BCS) হলো প্রজাতন্ত্রের ক্যাডারভুক্ত উচ্চতর প্রশাসনিক পদে নিয়োগের মূল পথ। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (বিপিএসসি) বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ থেকে শুরু করে পরীক্ষা গ্রহণ ও চূড়ান্ত সুপারিশ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া পরিচালনা করে। প্রশাসন, পুলিশ, পররাষ্ট্র, কর, নিরীক্ষা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ ২৬টিরও বেশি ক্যাডারে একটি বিসিএসের মাধ্যমে নিয়োগ হয়।

প্রতিটি বিসিএসে কয়েক লাখ প্রার্থী আবেদন করেন, আর ক্যাডার পদ থাকে সাধারণত দুই থেকে তিন হাজারের মতো — এই অনুপাতই বিসিএসকে দেশের সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় পরিণত করেছে। তাই শুরু থেকেই ধাপগুলো, সিলেবাস ও সময়রেখা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নিয়ে পরিকল্পিত প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।

What is BCS?

BCS (Bangladesh Civil Service) is the competitive examination for cadre posts in the civil service, conducted by the Bangladesh Public Service Commission (BPSC) across three stages — preliminary MCQ, written, and viva voce.

নিয়োগ প্রক্রিয়ার ধাপ (এক নজরে)

বিজ্ঞপ্তি থেকে চূড়ান্ত গেজেট পর্যন্ত একটি বিসিএস সম্পন্ন হতে সাধারণত দেড় থেকে দুই বছর বা তার বেশি সময় লাগে। তাই অনেক প্রার্থী একসাথে একাধিক বিসিএস ও অন্যান্য নিয়োগের প্রস্তুতি চালিয়ে যান।

  • বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ — bpsc.gov.bd-এর নোটিশ বিভাগে।
  • অনলাইন আবেদন — bpsc.teletalk.com.bd-এ ফরম পূরণ ও ফি জমা।
  • প্রিলিমিনারি পরীক্ষা — ২০০ নম্বরের MCQ স্ক্রিনিং।
  • লিখিত পরীক্ষা — সাধারণ ক্যাডারে মোট ৯০০ নম্বর।
  • মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা) — নম্বর বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী।
  • চূড়ান্ত ফলাফল, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পুলিশ ভেরিফিকেশন।
  • গেজেট প্রকাশ ও বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ শেষে পদায়ন।

প্রিলিমিনারি — ২০০ নম্বরের MCQ

প্রিলিমিনারি হলো বাছাই পরীক্ষা — এর নম্বর চূড়ান্ত মেধাতালিকায় যোগ হয় না, শুধু লিখিত পরীক্ষায় বসার যোগ্যতা নির্ধারণ করে। বিপিএসসির প্রকাশিত সিলেবাস অনুযায়ী ১০টি বিষয় থেকে ২০০টি MCQ থাকে (প্রতিটি ১ নম্বর):

  • বাংলা ভাষা ও সাহিত্য — ৩৫ নম্বর।
  • ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য — ৩৫ নম্বর।
  • বাংলাদেশ বিষয়াবলি — ৩০ নম্বর।
  • আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি — ২০ নম্বর।
  • ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা — ১০ নম্বর।
  • সাধারণ বিজ্ঞান — ১৫ নম্বর।
  • কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি — ১৫ নম্বর।
  • গাণিতিক যুক্তি — ১৫ নম্বর।
  • মানসিক দক্ষতা — ১৫ নম্বর।
  • নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন — ১০ নম্বর।

প্রিলিমিনারির নেগেটিভ মার্কিং

প্রিলিমিনারিতে প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য সাধারণত ০.৫০ নম্বর কাটা হয় — অর্থাৎ দুটি ভুল উত্তর একটি সঠিক উত্তরের নম্বর খেয়ে ফেলে; অনুমাননির্ভর উত্তর দেওয়ার আগে তাই ভাবুন। সঠিক নিয়ম প্রতিটি বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ থাকে। প্রিলির সিলেবাস, বিষয়ভিত্তিক কৌশল ও ৬ মাসের পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আমাদের প্রিলিমিনারি প্রস্তুতির পূর্ণাঙ্গ গাইডে

লিখিত পরীক্ষার মানবণ্টন — সাধারণ ও কারিগরি ক্যাডার

প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণ হলে ৯০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা — এটিই বিসিএসের সবচেয়ে নির্ণায়ক ধাপ, কারণ চূড়ান্ত মেধাতালিকার মূল ভিত্তি লিখিতের নম্বর। সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তিগুলো অনুযায়ী বিষয়ভিত্তিক বণ্টন:

  • উভয় (Both) ক্যাডার পছন্দ করলে সাধারণ ক্যাডারের ৯০০ নম্বরের সাথে পদ-সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ২০০ নম্বর যোগ হয়ে মোট ১১০০ নম্বরের পরীক্ষা দিতে হয়।
  • সময়: ২০০ নম্বরের পত্রে সাধারণত ৪ ঘণ্টা, ১০০ নম্বরের পত্রে ৩ ঘণ্টা।
  • পাসের সাধারণ নিয়ম: লিখিত পরীক্ষায় গড়ে ৫০% নম্বর পেলে উত্তীর্ণ; কোনো বিষয়ে ৩০%-এর কম পেলে সেই বিষয়ে প্রাপ্ত নম্বর শূন্য গণ্য হয় — চূড়ান্ত শর্ত বিজ্ঞপ্তিতে যাচাই করুন।
  • উত্তর লেখার কাঠামো, ফোকাস রাইটিং ও সময় ব্যবস্থাপনার কৌশল আমাদের লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি গাইডে দেখুন।
বিসিএস লিখিত পরীক্ষার মানবণ্টন (মোট ৯০০ নম্বর)
বিষয় সাধারণ ক্যাডার কারিগরি/পেশাগত ক্যাডার
বাংলা ২০০ ১০০
ইংরেজি ২০০ ২০০
বাংলাদেশ বিষয়াবলি ২০০ ২০০
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি ১০০ ১০০
গাণিতিক যুক্তি ও মানসিক দক্ষতা ১০০ ১০০
সাধারণ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ১০০
পদ-সংশ্লিষ্ট বিষয় ২০০
মোট ৯০০ ৯০০

ভাইভা — চূড়ান্ত ধাপে যা যাচাই হয়

লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের বিপিএসসি বোর্ডের সামনে মৌখিক পরীক্ষা দিতে হয়। বোর্ড এখানে মুখস্থবিদ্যা নয় — ব্যক্তিত্ব, যোগাযোগ দক্ষতা, সাম্প্রতিক বিষয়ে ধারণা, সততা ও ক্যাডার উপযোগিতা যাচাই করে। ভাইভার মোট নম্বর দীর্ঘদিন ২০০ ছিল; সাম্প্রতিক বিসিএসগুলোতে তা কমিয়ে ১০০ নির্ধারণ করা হয়েছে — আপনার বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত নম্বরই চূড়ান্ত। পাসের নম্বর সাধারণত ৫০%।

ভাইভার নম্বর লিখিতের নম্বরের সাথে যোগ হয়েই চূড়ান্ত মেধাক্রম তৈরি হয় — তাই কাছাকাছি লিখিত নম্বরের প্রার্থীদের মধ্যে ক্যাডার-ভাগ্য অনেক সময় ভাইভাতেই নির্ধারিত হয়।

  • বোর্ডে সাধারণত যা ঘিরে প্রশ্ন হয়: নিজের পরিচয় ও জেলা, স্নাতকের বিষয়, ক্যাডার পছন্দের কারণ, মুক্তিযুদ্ধ-সংবিধান এবং সাম্প্রতিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ঘটনা।
  • সাথে নিতে হয়: ভাইভার কার্ড, সব শিক্ষাগত সনদের মূল কপি, NID ও বিজ্ঞপ্তিতে চাওয়া অন্যান্য কাগজপত্র।
  • পোশাক ফর্মাল; নির্ধারিত সময়ের অন্তত ৩০–৪৫ মিনিট আগে পৌঁছান।
  • বোর্ডের দিনের পূর্ণ চিত্র, নমুনা প্রশ্ন ও মক ভাইভা পদ্ধতি — বিস্তারিত ভাইভা প্রস্তুতি গাইডে

ক্যাডার পছন্দ ও নন-ক্যাডার সুযোগ

আবেদনের সময় পছন্দের ক্রম অনুযায়ী ক্যাডার নির্বাচন করতে হয় — এই পছন্দক্রম পরে পরিবর্তনের সুযোগ সাধারণত থাকে না, তাই ভেবেচিন্তে দিন। সাধারণ ক্যাডার (প্রশাসন, পুলিশ, কর ইত্যাদি) সবার জন্য উন্মুক্ত; কারিগরি/পেশাগত ক্যাডারে (স্বাস্থ্য, কৃষি, প্রকৌশল ইত্যাদি) সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ডিগ্রি লাগে।

ক্যাডার পদে সুপারিশ না পেলেও হতাশ হবেন না — বিসিএসের ফলাফল থেকে নন-ক্যাডার প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির বিভিন্ন পদে সুপারিশের ব্যবস্থা আছে। অনেক প্রার্থী এই পথে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে যোগ দিয়েছেন।

আবেদন ও প্রস্তুতির পরামর্শ

  • বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষাগত যোগ্যতা, বয়স, ক্যাডার পছন্দ ও ফির নিয়ম মিলিয়ে নিন — বিস্তারিত আমাদের বিসিএস যোগ্যতা গাইডে।
  • bpsc.teletalk.com.bd-এ আবেদন করুন; ছবি ৩০০×৩০০ ও স্বাক্ষর ৩০০×৮০ পিক্সেল JPG (সীমা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী)।
  • bpsc.gov.bd-এ প্রকাশিত অফিসিয়াল সিলেবাস ধরে পড়ুন — বাজারের গাইড বইয়ের আগে সিলেবাসটাই মূল মানচিত্র।
  • বিগত বিসিএসের প্রশ্ন বিশ্লেষণ করুন — কোন বিষয় থেকে কেমন প্রশ্ন আসে তার ধরন বোঝা অর্ধেক প্রস্তুতি।
  • সরকারিচাকরি২৪-এর BCS ক্যাটাগরিতে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি ট্র্যাক করুন; চূড়ান্ত তথ্য সবসময় BPSC ওয়েবসাইটে যাচাই করুন।

প্রস্তুতি কখন ও কোন ক্রমে শুরু করবেন

বিসিএসের প্রস্তুতি বিজ্ঞপ্তি দেখে শুরু করলে দেরি হয়ে যায় — বিজ্ঞপ্তি থেকে প্রিলিমিনারি পর্যন্ত সাধারণত কয়েক মাস সময় থাকে, অথচ পূর্ণ প্রস্তুতিতে গড়ে এক বছর লাগে। আদর্শ ক্রম হলো: স্নাতকের শেষ বর্ষ থেকেই প্রিলির মূল বিষয়গুলো (বাংলা, ইংরেজি, গণিত) অল্প অল্প করে শুরু করা, তারপর বিজ্ঞপ্তির ঘোষণা এলে পূর্ণ গতিতে সিলেবাসভিত্তিক প্রস্তুতিতে নামা।

ধাপভিত্তিক বিস্তারিত পরিকল্পনার জন্য আমাদের আলাদা গাইডগুলো দেখুন — প্রিলিমিনারি প্রস্তুতির পূর্ণাঙ্গ গাইড, লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি এবং ভাইভা প্রস্তুতি। প্রিলি ও লিখিতের প্রস্তুতি আলাদা নয় — প্রিলির জন্য গভীরভাবে পড়া প্রতিটি টপিক লিখিততেও কাজে লাগে।

বিসিএস প্রার্থীদের সাধারণ ভুল

  • সিলেবাস না দেখে গাইড বই মুখস্থ শুরু করা — আগে bpsc.gov.bd থেকে অফিসিয়াল সিলেবাস নামিয়ে সেটিকেই পড়ার মানচিত্র বানান।
  • সব বিষয়ে সমান সময় দেওয়া — মানবণ্টন অনুযায়ী সময় ভাগ করুন; ৩৫ নম্বরের বাংলা আর ১০ নম্বরের নৈতিকতা এক সময় পাওয়ার দাবি রাখে না।
  • মক টেস্ট এড়িয়ে যাওয়া — শুধু পড়ে গেলে পরীক্ষার হলের সময়চাপ ও নেগেটিভ মার্কিংয়ের চাপ সামলানো শেখা হয় না।
  • এক বিসিএসে ব্যর্থ হয়ে হাল ছেড়ে দেওয়া — অধিকাংশ ক্যাডারই দ্বিতীয় বা তৃতীয় চেষ্টায় সফল হয়েছেন; প্রতিটি চেষ্টার ভুল-তালিকাই পরের চেষ্টার পুঁজি।
  • শুধু বিসিএসের ওপর নির্ভর করা — একই প্রস্তুতি দিয়ে ব্যাংক, নন-ক্যাডার ও অন্যান্য সরকারি নিয়োগেও আবেদন চালিয়ে যান।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

  • বিসিএস কতবার দেওয়া যায়? — নির্দিষ্ট কোনো সীমা নেই; বয়সসীমার মধ্যে থাকা পর্যন্ত প্রতিটি নতুন বিজ্ঞপ্তিতে আবেদন করা যায়।
  • প্রিলির নম্বর কি চূড়ান্ত ফলাফলে যোগ হয়? — না; প্রিলি শুধু লিখিত পরীক্ষায় বসার যোগ্যতা নির্ধারণ করে। মেধাতালিকা হয় লিখিত ও ভাইভার নম্বরে।
  • কোচিং কি বাধ্যতামূলক? — না; অফিসিয়াল সিলেবাস, বিগত প্রশ্ন ও নিয়মিত মক টেস্ট দিয়ে নিজে নিজেই সম্পূর্ণ প্রস্তুতি সম্ভব। কোচিং কেবল রুটিন ধরে রাখার একটি মাধ্যম।
  • চাকরিরত অবস্থায় কি বিসিএস দেওয়া যায়? — যায়; তবে সরকারি চাকরিরত হলে সাধারণত যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতির শর্ত থাকে — বিজ্ঞপ্তির নির্দেশনা দেখুন।
  • ক্যাডার না পেলে কী হয়? — লিখিত ও ভাইভায় উত্তীর্ণ কিন্তু ক্যাডার পদ না পাওয়া প্রার্থীদের নন-ক্যাডার প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদে সুপারিশের সুযোগ থাকে।
Advertisement
দায়মুক্তি

এই গাইড সাধারণ তথ্যের জন্য। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে অফিসিয়াল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখুন। Disclaimer · যোগাযোগ

সব গাইডে ফিরুন